দ্বিতীয় পাঠ কিডনির সমস্যা আমাদের খালি চোখে দেখার বা বোঝার কোন উপায় আছে?




মোঃ মিজানুর রহমান পেশায় একজন গাড়িচালক, এক পর্যায়ে বয়স বাড়ার সাথে সাথে যখন মিজানুর রহমান নিজে বুঝতে পারলেন যে সমস্যা হচ্ছে , তখন মিজানুর রহমান একজন ডাক্তারের কাছে যাওয়া শুরু করলো। তাতে কোন লাভ তো হলোই না মিজানুর রহমানের বরং ও খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। একদম রক্ত কমে গিয়েছিল মিজানুর রহমানের। এইরকম অবস্থায় মিজানুর রহমানকে ঢাকায় যখন কিডনি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ততদিনে মিজানুর রহমানের দুটো কিডনি পুরো বিকল হয়ে যায়। ডাক্তার বলেছিল প্রতিস্থাপন ছাড়া কোন উপায় নেই।

শুধুমাত্র ত্বকের একটি সমস্যার মাধ্যমেও জানা গিয়েছিলো কিডনির সমস্যা।

জাতীয় কিডনি ইন্সটিটিউট ঢাকায় অবস্থিত সেখানের অধ্যাপক ডা. ফজল নাসের একজন  হাসপাতালের সহযোগী তিনি বলেন, একদম প্রথম পর্যায়ে কিডনির সমস্যার তেমন কোন লক্ষণ থাকে না। কারণ শরীর কিডনি'র পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে পারে শুরুতে।

তবে লক্ষণ দেখা দেয় প্রথম পর্যায় পার হলেই। ডা. ফজল নাসের বলছেন, বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে যা একজন সাধারণ মানুষেরও খালি চোখে নজরে পড়ে। যা দেখে একজন মানুষ সাবধান হতে পারে।

সবসময় ক্লান্তি: নির্দিষ্ট কোন কারণ ছাড়াই সবসময় ক্লান্তি, নিজেকে দুর্বল অনুভব করা, ওজন কমে যায় এরকম যদি একজন মানুষের নিয়মিত হতে থাকে এবং কিডনি ঠিক মতো কাজ না করলে রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয় ফলে এই ক্লান্তিভাব শুরু হয়।

ফোলাভাব: বিশেষ করে চোখের নিচে ফোলা, হাত ফোলা ভাব ও পায়ের গোড়ালি ফোলা। ডা. নাসের বলছেন, একটু বেশি ঘুমাইলে অথবা অ্যালার্জির কারণে যদি ফুলে যায় তার সাথে কিডনির অসুখে ফোলার পার্থক্য আছে।

যদি পায়ের গোড়ালি ফোলাভাব বা চোখের নিচে স্থায়ী হয়, এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহ হয় তাহলে সেটা ভেবে নিবেম কিডনি'র কারণে হতে পারে।

শরীর থেকে কিডনি যখন পানি বের করতে পারে না তখন তা শরীরে জমে গিয়ে এই ফোলাভাব সৃষ্টি হয়।

ঘুমের ব্যাঘাত এটাও আপনার কিডনি সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। কিডনি যখন শরীর থেকে পানি বের করতে পারে না তখন কিছু পানি ফুসফুসে গিয়ে জমে যায়। ফলে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। আপনি দাঁড়ানি অবস্থায় বুক ভরে শ্বাস নিতে পারেন কিন্তু দেখা যায় শোয়া অবস্থায় বুক পুরোপুরি প্রসারিত হয়না। পানি জমলে সমস্যাটা আরও বেশি হয়। ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসে সমস্যা হয় বলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।

Post a Comment

Previous Post Next Post