কিডনির সমস্যা আমাদের খালি চোখে দেখার বা বোঝার কোন উপায় আছে?



ঢাকার বাসিন্দা হলেন মোসাম্মৎ শামসুন্নাহার তিনি ৩ বছর হলো কিডনি রোগের অসুখে ভুগছেন। শামসুন্নাহার বলছিলেন, একদম হঠাৎ করে একসময় জানতে পারেন তিনি ক্রনিক কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ শামসুন্নাহারের দুটি কিডনির মধ্যে একটিও পুরোপুরি ভালো নেই।

কিভাবে জানলেন কিডনির সমস্যা সে সম্পর্কে বলছিলেন শামসুন্নাহার, "বছরে কয়েকবার কাশি হতো শামসুন্নাহারের সাথে জ্বরও থাকতো। নিয়মিত একজন ডাক্তারের কাছে শামসুন্নাহার যেত। নির্দিষ্ট দুটো ঔষধই দিত ডাক্তার। ওষুধ দুটো খেলে ভাল হয়ে যেত। একবার একটি অ্যাপের মাধ্যমে শামসুন্নাহার বাসায় ডাক্তার ডেকে আনেম। ডাক্তার কয়েকটা  রক্ত টেস্ট দিয়েছিলেন। ডাক্তার রক্তে একটি জিনিস বেশি দেখে জানালো শামসুন্নাহার কিডনি আক্রান্ত। কোন লক্ষণ নেই তার, হঠাৎ জানতে পারল শামসুন্নাহারের দুটো কিডনিই নষ্ট। তবে খুব খারাপের দিকে বেশি যায়নি।

কিডনি সমস্যা জানার পর থেকে দিনে আট ধরনের ঔষধ শামসুন্নাহার খেয়ে যাচ্ছেন। নানা বিধিনিষেধ এবং ঔষধে সমস্যাটি যে পর্যায়ে ছিল শামসুন্নাহার সেই পর্যায়েই ধরে রেখেছেন। কিন্তু কিছু লক্ষণ শামসুন্নাহার আগে ধরতে পারলে হয়ত আরও আগেই জানতো।

এরকম হঠাৎ করেই বাংলাদেশে অনেকেই জানতে পারেন কিডনি অসুখের কথা। কিন্তু শুধু ত্বকের সমস্যা থেকে মোঃ মিজানুর রহমানের একজন ব্যক্তি জেনেছিলেন তার ছোট ভাইয়ের দুটি কিডনির মধ্যে একটি আকারে ছোট।

মিজানুর বলেন তার ছোট ভাই সপ্তম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় ভাইয়ের শরীরের চুলকানি শুরু হয়েছিল হঠাৎ করে। তখন মিজানুর ছোট ভাইকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছিল। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা দিয়েছিলো। সেগুলো দেখে ডাক্তার বলেছিল যে মিজানুর রহমানের ভাইয়ের একটা কিডনি আকারে ছোট। নিয়মিত ডাক্তার দেখাতে হবে ছোট ভাইকে, তাহলে ভাল থাকবে। পরে ঔষধ খেয়ে চুলকানি সেরে গেল। তারপর বছর দশেক আর ডাক্তারই দেখানো হয়নি।

দুই বছর আগে দুটো কিডনি বিকল হয়ে মিজানুর রহমানের ভাই ছোট ভাই মারা গেছেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post